শিরোনাম

বিএনপির কর্মসূচিতে অস্ত্রের মহড়া!

বাংলাদেশ যুগান্তর
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
বিএনপির কর্মসূচিতে অস্ত্রের মহড়া! ছবি: বাংলাদেশ যুগান্তর
বিএনপির কর্মসূচিতে অস্ত্রের মহড়া! ছবি: বাংলাদেশ যুগান্তর

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলটির দুই পক্ষের সংঘর্ষে অস্ত্র হাতে দুই যুবকের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অস্ত্রধারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অনুসারী এবং দলের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সংঘর্ষের পাশাপাশি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে নীল পাঞ্জাবি ও জিনস পরা এক যুবককে হাতে অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষকে ধাওয়া করতে দেখা যায়। অন্য একটি ভিডিওতে লাল টি-শার্ট পরা আরেক যুবককেও অস্ত্র হাতে প্রতিপক্ষের দিকে তেড়ে যেতে দেখা যায়। স্থানীয় সূত্রে অস্ত্রধারীদের একজনের নাম সিরাজ এবং অন্যজনের নাম সাদেক বলে জানা গেছে। তবে তারা বিএনপির কোন পক্ষের অনুসারী, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীদের দাবি, ওই দুজন আসলাম চৌধুরীর অনুসারী এবং তাদের বাড়ি মিরসরাই উপজেলায়।

এদিকে সংঘর্ষের সময় আসলাম চৌধুরীর অনুসারী রোকন মেম্বারকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরা অবস্থায় মিছিলে দেখা গেছে। তাঁর সঙ্গে থাকা একটি গোলাপি ব্যাগ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে ব্যাগের ভেতরে কী ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দিন ধরেই উত্তেজনা চলছিল। মুনস্টার ক্লাবে কর্মসূচি আয়োজনকে কেন্দ্র করে পুলিশ দুই পক্ষকে পৃথক সময়ে কর্মসূচি পালনের সময় নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে এক পক্ষ সেখানে অবস্থান নেওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পরে এক পক্ষ মিছিল নিয়ে পৌর সদরের দিকে যাওয়ার সময় দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় অস্ত্রের প্রদর্শন নিয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে অভিযোগ করেন, বিএনপির রাজনীতিতে অস্ত্রের কোনো স্থান নেই। অন্যদিকে আসলাম চৌধুরী অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে তাঁর পক্ষের কর্মসূচি বানচাল করতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করা হয়েছে। তিনি দলের হাইকমান্ডের কাছে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তবে দুই পক্ষের অভিযোগই পৃথক রাজনৈতিক দাবি হিসেবে উঠে এসেছে। সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিনুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষের সময় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অস্ত্রের ছবি ও ভিডিও পুলিশ দেখেছে। অস্ত্রধারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পুলিশ বলছে, সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িতদের পাশাপাশি প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনকারীদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL