কথিত প্রেমিকের ব্যবসার জন্য স্বামীর কাছে চার লাখ টাকা দাবি এবং সেই টাকা না দেওয়ায় শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে স্ত্রী, তাঁর কথিত প্রেমিক ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন শামীম মিয়া নামে এক ব্যক্তি। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালতে মামলার আবেদন করেন ফার্মেসি ব্যবসায়ী শামীম মিয়া। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কদমতলী থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন আদালত।
মামলার আসামিরা হলেন—শামীমের স্ত্রী ফাতেমা তুজ জহুরা, তাঁর কথিত প্রেমিক শেখ মো. ইমাম হোসাইন এবং শাশুড়ি শাহানাজ। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে ফাতেমার সঙ্গে শামীমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর শামীম জানতে পারেন, বিয়ের আগে ইমাম হোসাইনের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর সম্পর্ক ছিল এবং বিয়ের পরও তাঁদের যোগাযোগ অব্যাহত ছিল বলে অভিযোগ।
শামীমের দাবি, ফার্মেসি ব্যবসা থেকে উপার্জিত টাকা তিনি বাসায় রাখতেন। সেই অর্থ থেকে তাঁর স্ত্রী বিভিন্ন সময়ে ইমাম হোসাইন ও তাঁর মাকে টাকা দিতেন। বিষয়টি জানতে পেরে টাকা দেওয়া বন্ধ করতে চাইলে দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য তাঁর স্ত্রী নানা শর্ত দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীর অভিযোগ, গত দুই বছরে বিভিন্ন অজুহাতে তাঁর কাছ থেকে প্রায় চার লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে টাকা ফেরত চাইলে স্ত্রী ওই অর্থ ইমাম হোসাইন ও তাঁর মাকে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন বলেও মামলায় দাবি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সর্বশেষ গত ২০ আগস্ট রাতে ইমাম হোসাইনের ব্যবসার জন্য শামীমের কাছে আরও চার লাখ টাকা দাবি করেন তাঁর স্ত্রী ও শাশুড়ি। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে ধাক্কা দিয়ে খাটের ওপর ফেলে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন শামীম। পরে স্ত্রী, কথিত প্রেমিক ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করেন তিনি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী এস এম সবুজ জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কদমতলী থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে মামলায় করা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। পুলিশ তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার পর অভিযোগের সত্যতা ও পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।