চট্টগ্রাম নগরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পট এলাকাগুলোতে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নগরবাসীকে নিজ নিজ ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়েছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি এলাকায় চসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
মেয়র বলেন, ঘর-আঙিনা কিংবা আশপাশের কোথাও পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের বোতল ও নির্মাণাধীন ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করলে হবে না। প্রত্যেক নাগরিককে নিজের বাসাবাড়ি ও কর্মস্থলের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে।
মেয়র জানান, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম নিয়মিত চলছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে লার্ভা ধ্বংসের পাশাপাশি ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। যেসব এলাকায় মশার ঘনত্ব বেশি সেসব এলাকায় বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, চলতি মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চসিক মেয়র বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা একটি সম্মিলিত দায়িত্ব। সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধনকর্মীরা মাঠে কাজ করছেন। তবে নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া এ কার্যক্রম পুরোপুরি সফল করা সম্ভব নয়। নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঘর-আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, জমে থাকা পানি অপসারণ করুন এবং ডেঙ্গু থেকে নিজে বাঁচুন অন্যকেও বাঁচান। সম্মিলিত সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে হবে।