আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে দণ্ডিত কোনো ব্যক্তি রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে আর আপিলের সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। সোমবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। পলাতক ব্যক্তি হোন কিংবা কারাগারে থাকা আসামি—রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যেই আপিল করতে হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১-এর ৩ ধারার কথা উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করা না হলে পরবর্তীতে সেই আপিল গ্রহণযোগ্য হবে না।
তিনি বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করেননি। একই বিধান মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে বলে মন্তব্য করেন চিফ প্রসিকিউটর। আমিনুল ইসলাম জানান, কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলা নিয়ে শুনানি হয়েছে। সে সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট আইনি বিধানগুলো আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনো আপিল বিভাগ গ্রহণ করেনি। ফলে এ বিষয়ে আপিল বিভাগে বর্তমানে কোনো বিচারিক কার্যক্রমও চলমান নেই বলে দাবি করেন তিনি। চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর ৩০ দিনের সময়সীমা অতিক্রম হয়ে গেলে অন্য কোনো ফোরামেও আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে না। সেক্ষেত্রে রায় বাস্তবায়ন ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।
তবে কোনো সাজা স্থগিত করার ক্ষেত্রে সরকারের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান আমিনুল ইসলাম। তার মতে, সরকার যেকোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, আবার নাও করতে পারে। এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কোনো অসংগতি হবে না বলেও জানান চিফ প্রসিকিউটর।
তিনি বলেন, গুমের অভিযোগ ও বিভিন্ন রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। চিফ প্রসিকিউটরের এসব বক্তব্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর আপিলের নির্ধারিত সময়সীমা এবং সরকারের সাজা স্থগিতের ক্ষমতা—দুই বিষয়েই আইনি অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।