জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬-এ আইনের স্পষ্ট দ্বৈত প্রয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রোববার রাতে জাতীয় সংসদে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ জনমত যাচাইয়ের জন্য উঠলে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, প্রস্তাবিত আইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দুই ধরনের ব্যবস্থা রাখার সুযোগ রয়েছে। সাধারণ কোনো ব্যক্তি মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত হলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সরাসরি তদন্ত করতে পারবে। কিন্তু কোনো বাহিনীর সদস্য জড়িত থাকলে আগে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে নোটিশ দিয়ে জবাব নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রথম নোটিশের জবাব না দিলে পরবর্তী সময়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিলে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। অথচ প্রথম জবাব সন্তোষজনক না হলে দ্বিতীয়বার জবাব চাওয়া এবং এরপর তদন্তের সুযোগ রাখা হয়েছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্যরাও দেশের নাগরিক। একই ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় একজনের বিরুদ্ধে সরাসরি তদন্ত করা যাবে, আর অন্যজনের ক্ষেত্রে তদন্ত শুরুর আগেই অতিরিক্ত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে—এমন বৈষম্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে বিভিন্ন আইনের দুর্বল সংস্করণ সংসদে আনা হচ্ছে। তাই তারা এই আইন পাসের অংশীদার হবেন না। তিনি বলেন, তারা বিলটির আলোচনায় অংশ নেবেন না এবং এর প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছেন।