শিরোনাম

প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে শেষ মুহূর্তে বন্ধ নিয়োগ পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে শেষ মুহূর্তে বন্ধ নিয়োগ পরীক্ষা ছবি: সংগৃহীত
প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে শেষ মুহূর্তে বন্ধ নিয়োগ পরীক্ষা ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা শুরুর মাত্র আধা ঘণ্টা আগে স্থগিত করা হয়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন তিন লাখেরও বেশি চাকরিপ্রার্থী। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় এসেও পরীক্ষা দিতে না পারায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন পরীক্ষার্থীরা।

শনিবার সকাল ১১টায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পরীক্ষা স্থগিতের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরীক্ষার আগের রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানা গেছে।

পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নেওয়ার পর শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় তাদের সময় অর্থ ও পরিশ্রম নষ্ট হয়েছে। অনেকেই দূরদূরান্ত থেকে যাতায়াত করে ঢাকায় এসেছেন। থাকা-খাওয়ার খরচও বহন করতে হয়েছে তাদের।

কিশোরগঞ্জ থেকে পরীক্ষা দিতে আসা আবু জাফর জানান, কেন্দ্রে প্রবেশের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় নিরাপত্তাকর্মীর কাছ থেকে পরীক্ষা স্থগিতের খবর পান তিনি। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নিয়ে অনেক আশা নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর মাত্র আধা ঘণ্টা আগে স্থগিতের খবর পেয়ে হতাশ হয়েছেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ থাকলে তা আগে থেকেই খতিয়ে দেখা উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।

একইভাবে ময়মনসিংহ থেকে আসা পরীক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাতও শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার পেছনে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত নতুন তারিখ ঘোষণার আহ্বান জানান তিনি।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদটি ১১তম গ্রেডের। ২৪২টি শূন্য পদের বিপরীতে সারা দেশ থেকে তিন লাখেরও বেশি প্রার্থীর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এ জন্য রাজধানীর প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টে দাবি করা হয়, নিয়োগ পরীক্ষা কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার আত্মীয়সহ অধিদপ্তরের একটি চক্র প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িত। ওই পোস্টে প্রার্থীপ্রতি গড়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকায় চুক্তির অভিযোগও করা হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক প্রশাসন ডি এম আতিকুর রহমান জানান, সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি তারা শুনেছেন। পরে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের তদন্ত কীভাবে হবে এবং নতুন পরীক্ষার তারিখ কবে ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

চাকরিপ্রার্থীরা বলছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত নতুন পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL