বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চক্ষু চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং অন্ধত্বের ঝুঁকি কমাতে রংপুরে সপ্তাহব্যাপী বিশেষ চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছে সৌদি আরবের কিং সালমান মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কেন্দ্র। ৮ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলমান এ কর্মসূচিতে ৪ হাজার মানুষের চোখ পরীক্ষা, ৪০০টি অস্ত্রোপচার এবং ১ হাজার জোড়া চশমা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
‘অন্ধত্ব ও এর কারণসমূহ মোকাবেলায় নূর আল-সৌদিয়া স্বেচ্ছাসেবী অভিযান’ শীর্ষক এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে কেন্দ্রটির স্থানীয় অংশীদার আল-বাসার আন্তর্জাতিক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায়। এ উপলক্ষে রংপুরে একটি সৌদি স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসক দল পাঠানো হয়েছে। আয়োজকদের লক্ষ্য, আর্থিক অসচ্ছলতা ও চিকিৎসাসেবার সীমিত সুযোগের কারণে যাঁরা চোখের চিকিৎসা নিতে পারেন না, তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়া। বিশেষ করে চোখ পরীক্ষা, অস্ত্রোপচার এবং দৃষ্টিশক্তি সংশোধনে চশমার প্রয়োজন রয়েছে—এমন মানুষের জন্য এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।
কর্মসূচির আওতায় রোগীদের চোখ পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৪০০টি অস্ত্রোপচার এবং ১ হাজার জোড়া চশমা বিতরণ করা হবে। তবে কর্মসূচি শেষ হওয়ার আগে চিকিৎসা সম্পন্ন ও চশমা বিতরণের চূড়ান্ত সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সৌদি আরবের কিং সালমান মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কেন্দ্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়।
রংপুরের এ কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক চক্ষু ফাউন্ডেশনের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি চোখের রোগ শনাক্তকরণ ও দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় সহায়ক হতে পারে। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে মানবিক সহযোগিতাও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। রংপুরে পরিচালিত এ চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রম দুই দেশের স্বাস্থ্যসেবামূলক সহযোগিতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কর্মসূচিটি সম্পন্ন হলে হাজারো মানুষ চক্ষু পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার ও চশমা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।