বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাপান থেকে দেশে ফিরতে কিছুটা দেরি হলেও সফরসঙ্গীদের সবাইকে সঙ্গে নিয়েই দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চাইলে বিকল্প বিমানে দেশে ফেরার সুযোগ থাকলেও সফরসঙ্গীদের রেখে আসতে চাননি তিনি। এমনটাই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি জানান, জাপান থেকে ফেরার আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। তবে সেটি বড় কোনো সমস্যা ছিল না। পর্যবেক্ষণের সময় ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সফটওয়্যারের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা হয়। অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরও জানান, এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিমানের অন্য যাত্রীদের কাছে গিয়ে কথা বলেন এবং তাঁদের আশ্বস্ত করেন। বিশেষ করে শিশুদের যেন কোনো ধরনের আতঙ্ক তৈরি না হয়, সেদিকেও নজর রাখেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি শিশুদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।
জাপানে চার দিনের সরকারি সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা ৪৮ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর আগে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে ফ্লাইটটি।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে গত ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপান সফর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন তিনি। এ ছাড়া দেশটির বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এসব বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলেও সফরসঙ্গীদের সঙ্গে নিয়েই দেশে ফেরার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।