দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলগুলোর কাছে কার্যকর পরিকল্পনা চাইলেও জামায়াতে ইসলামী বলছে, পরিকল্পনার ঘাটতি নয়, এখন প্রয়োজন বাস্তবায়ন। দলটির দাবি, প্রায় তিন মাস আগেই সরকারের কাছে ১০ দফা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এখন সেই পরিকল্পনার কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে, তার হিসাব দিতে হবে সরকারকে। রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি জানান, গত ২১ মে জাতীয় সংসদের জ্বালানি সংকটসংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ১০ দফা সুপারিশ দেওয়া হয়েছিল। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, গ্যাসকূপে ওয়ার্কওভার, ভোলা, জামালপুর ও জকিগঞ্জের গ্যাস জাতীয় ব্যবস্থায় যুক্ত করা, স্থল ও সমুদ্রভাগে অনুসন্ধান বাড়ানো এবং সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং দ্রুত চালুর প্রস্তাব ছিল এতে। জামায়াতের দাবি, গত প্রায় তিন মাসে এসব সুপারিশের কোনটি বাস্তবায়ন হয়েছে, কোনটির কাজ শুরু হয়েছে এবং কোনগুলো এখনো কাগজে পড়ে আছে—সরকারকে তার স্পষ্ট জবাব দিতে হবে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, শুধু নতুন এফএসআরইউ নির্মাণ করলেই গ্যাস সংকটের সমাধান হবে না। এলএনজি আমদানি, বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজনীয়তা এবং পাইপলাইন অবকাঠামোর বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, ৯০ দিনের মধ্যে দ্রুত ফলদায়ক গ্যাসকূপে ওয়ার্কওভার শুরু, বন্ধ ও কম উৎপাদনশীল কূপের তালিকা প্রকাশ, ভোলার গ্যাস ব্যবহারে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা, অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও সিস্টেম লসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং গ্যাস বণ্টনের প্রকাশ্য সময়সূচি করা সম্ভব।
জামায়াতের পক্ষ থেকে সরকার, বিরোধী দল, পেট্রোবাংলা, বাপেক্স, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, ব্যবসায়ী ও স্বাধীন জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি যৌথ বাস্তবায়ন কাঠামো গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। ৯০ দিন পর জাতীয় সংসদে অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপনের দাবি জানিয়েছে দলটি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চায় না জামায়াত। কারণ জ্বালানি সংকটে সরকার ব্যর্থ হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষ, শিল্প, ব্যবসা ও দেশের অর্থনীতি। তাই রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে কার্যকর সমাধান ও জবাবদিহির প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত। বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি বলেন, ২১ মে দেওয়া পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু হবে, নাকি নতুন পরিকল্পনা ও নতুন কমিটির অপেক্ষায় থাকতে হবে—এখন সেটিই সরকারের সামনে মূল প্রশ্ন। ৯০ দিন পর এ বিষয়ে হিসাব নেওয়ার কথাও জানান তিনি।