প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকে পর্যটক প্রবেশে চার দিনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে জেলা প্রশাসন। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর শুক্রবার প্রথম দিনেই সাজেকে প্রবেশ করেছেন প্রায় ৮০০ পর্যটক। এতে দীর্ঘ চার দিনের স্থবিরতা কাটিয়ে প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসা ও অর্থনীতিতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন অনিবার্য কারণে গত চার দিন সাজেকে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। এতে অনেক পর্যটকের পূর্বনির্ধারিত ভ্রমণ পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় এবং পর্যটকদের ভ্রমণ নির্বিঘ্ন করতে শুক্রবার থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় রাঙামাটি জেলা প্রশাসন।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর শুক্রবার সকাল থেকেই খাগড়াছড়ি হয়ে পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ ধরে সাজেকের দিকে পর্যটকবাহী যানবাহন চলাচল শুরু হয়। দীর্ঘ বিরতির পর পর্যটকদের আগমনে মুখর হয়ে ওঠে পাহাড়ঘেরা এই পর্যটনকেন্দ্র।
সাজেক কটেজ-রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুপর্ণ দেববর্মন জানান, চার দিন বন্ধ থাকার পর প্রথম দিনেই প্রায় ৮০০ পর্যটক সাজেকে পৌঁছেছেন। পাহাড়ের বুকজুড়ে ভেসে বেড়ানো মেঘের চাদর আর সাজেকের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনেক পর্যটক ইতোমধ্যে অগ্রিম বুকিং নিশ্চিত করেছেন। পর্যটকদের স্বাগত জানাতে স্থানীয় কটেজ, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।
এদিকে, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়েছে। পর্যটকেরা যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে পারেন, সে জন্য পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
চার দিন পর্যটক প্রবেশ বন্ধ থাকায় সাজেকের পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীদের মধ্যে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, পর্যটকদের ফিরে আসায় তা কাটতে শুরু করেছে। রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাতের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ফিরেছে স্বস্তি।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, আবহাওয়া ও সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী দিনগুলোতে সাজেকে পর্যটকদের আগমন আরও বাড়বে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে এবং পর্যটন ব্যবসায় ফিরবে স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য।