সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে মঙ্গলবার। জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। বৈঠকে তারা সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসেন সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ সময় ১০ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব নিয়েও বৈঠকে বিভিন্ন মতামত এসেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ মনে করেন কোনো ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকার সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া গণতান্ত্রিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। জনগণ কোনো নেতাকে পুনরায় দায়িত্বে দেখতে চাইলে সেই সুযোগ থাকা উচিত বলেও মতামত এসেছে বলে জানান তিনি।
তবে ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ যেন তৈরি না হয় সেই বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ সময় ১০ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সময় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ ১০ বছরের যে প্রস্তাব দিয়েছিল সেই অবস্থান থেকে তারা এখনো সরে আসেনি। এর আগে সংবিধান সংশোধন নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অংশীজনের সঙ্গে আলোচনায়ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করার বিষয়টি উঠে এসেছে।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ সাকি, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং মো. মাহমুদুল হক রুবেল উপস্থিত ছিলেন।