নওগাঁর মান্দা উপজেলার চকদেবীরাম-চকভোলাই আলিম মাদ্রাসায় ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ঘটেছে চরম বিপর্যয়। এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৫ জন শিক্ষার্থীর একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্যের এমন ফলাফলে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ, হতাশা এবং নানা প্রশ্ন।
আরও আলোচনার জন্ম দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা। মাদ্রাসাটিতে মোট ২৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। বিপরীতে দাখিল পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র ১৫ জন। এত সংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী থাকার পরও কেন একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারল না—এ প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই মাদ্রাসাটির শিক্ষার মান, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতি, পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং সার্বিক একাডেমিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সভাপতি ইউএনও নিজেই—তবুও ফলাফল শূন্য!
বিষয়টিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে ঘিরে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দায়িত্বে থাকার পরেও প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার তদারকি কতটা কার্যকর ছিল—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
অভিভাবকদের প্রশ্ন, যে প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ শিক্ষক কর্মচারী জামাত এবং আওয়ামী রাজনীতির সাথে সক্রিয় ভাবে জড়িত জানার পরেও ইউএনও মহোদয় কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা গ্রহণ করেননি?যেখানে২৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন, সেখানে ১৫ জন দাখিল পরীক্ষার্থীর একজনও কেন পাস করতে পারল না? নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষক উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি ছিল কি না—সেটিও এখন খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
দায় কার—শিক্ষার্থী, শিক্ষক নাকি ব্যবস্থাপনার?
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দাখিল পরীক্ষায় শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। তবে এর দায় এককভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই বলেও মনে করছেন সচেতন মহল।
ফলাফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ জানতে বিষয়ভিত্তিক ফলাফল, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতি, নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা এবং পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হোক—কোথায় ঘাটতি ছিল এবং কেন ১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
উঠছে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে ইউএনওর তদারকির আওতায় বিষয়টি কতটা গুরুত্ব পেয়েছে?
শিক্ষার্থীদের ফল বিপর্যয়ের জন্য দায়ী কারণগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না?
এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে এখন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে শতভাগ অকৃতকার্যের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে প্রতিষ্ঠানে গিয়েও মেইন গেটের তালা খোলা পাওয়া যাইনি।বার বার ডাকাডাকির পরেও ভিতরে কেউ আছে এমনটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।তাই ফেল করার বাস্তব কারণ নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মানের স্বার্থে বিষয়টি যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল।
এখন দেখার বিষয়, ১৫ জন পরীক্ষার্থীর একজনও পাস না করার এই ফলাফল নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ব্যাখ্যা দেয় এবং শিক্ষা কার্যক্রমের ঘাটতি থাকলে তা দূর করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারী রাজনীতি মুক্ত হয় কিনা?এলাকাবাসী দায়িদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্হা গ্রহণসহ এমপিও বাতিলের দাবী তুলেছেন।