সংবাদ শিরোনামঃ

চট্টগ্রামে ২০২৬ সালের শেষে শুরু হতে পারে লালদিয়া টার্মিনালের নির্মাণ

নিজস্ব প্রতিনিধি:
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
চট্টগ্রামে ২০২৬ সালের শেষে শুরু হতে পারে লালদিয়া টার্মিনালের নির্মাণ ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে ২০২৬ সালের শেষে শুরু হতে পারে লালদিয়া টার্মিনালের নির্মাণ ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের প্রস্তাবিত নকশা ও পরিচালনার রূপরেখা প্রকাশ করেছে বিশ্বের ৬০টিরও বেশি বন্দর ও টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস। প্রয়োজনীয় সরকারি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়া গেলে ২০২৬ সালের শেষের দিকে লালদিয়া টার্মিনালের নির্মাণকাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন এপিএম টার্মিনালস লালদিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রমেশ ডেভিড।

তিনি বলেন, টার্মিনালের নকশা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। পুরো প্রক্রিয়ায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। এপিএম টার্মিনালসের আশা, নির্মাণকাজ শেষ করে ২০৩০ সালের মধ্যে টার্মিনালটি পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হবে। নির্মাণ শেষে লালদিয়া হবে বাংলাদেশের প্রথম শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগে নির্মিত কনটেইনার টার্মিনাল। বছরে ৮ লাখের বেশি টিইইউ কনটেইনার পরিচালনার সক্ষমতা থাকবে এর। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ২৩ শতাংশ বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন টার্মিনাল চালু হলে বন্দরের জাহাজ ও কনটেইনারের জট কমার পাশাপাশি পণ্য খালাসের গতি বাড়বে। একই সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমিয়ে দেশের বাণিজ্যিক সক্ষমতা আরও বাড়াতে এটি ভূমিকা রাখতে পারে। প্রস্তাবিত নকশা অনুযায়ী, লালদিয়া টার্মিনালে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতার কনটেইনার জাহাজ পরিচালনার সুবিধা থাকবে। চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে যে ধরনের জাহাজ ভিড়ছে, তার তুলনায় এই সক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি।

টার্মিনালটিতে থাকবে ১০ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের ৬১৩ মিটার দীর্ঘ জেটি। কনটেইনার ওঠানামার জন্য থাকবে সাতটি শিপ-টু-শোর ক্রেন, ৩২টি বিদ্যুৎচালিত রাবার টায়ারযুক্ত গ্যান্ট্রি ক্রেন এবং ৪১টি বিদ্যুৎচালিত টার্মিনাল ট্রাক্টর। নির্মাণ শেষ হলে বড় আকারের কনটেইনার জাহাজ সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে ভেড়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের দক্ষতা বাড়ার পাশাপাশি শিপিং কার্যক্রম আরও নির্ভরযোগ্য হবে বলে আশা করছে এপিএম টার্মিনালস।

গত বছরের ১৭ নভেম্বর সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পিপিপি মডেলের আওতায় লালদিয়া টার্মিনালের নকশা, অর্থায়ন, নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তি করে এপিএম টার্মিনালস বিভি। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আমিরুল হক এই প্রকল্পের অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, প্রস্তাবিত বিনিয়োগ বাংলাদেশের সমুদ্র যোগাযোগ ও বাণিজ্য খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে। চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক লজিস্টিকস হাবে পরিণত করার ক্ষেত্রেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এপিএম টার্মিনালস জানিয়েছে, লালদিয়া টার্মিনাল বাংলাদেশের নৌ-সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে দেশের সংযোগ আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে দ্রুত সম্প্রসারিত বাংলাদেশের বাণিজ্য কার্যক্রমকে সহায়তা করবে। সব অনুমোদন ও প্রস্তুতিমূলক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ নির্মাণ শুরু হলে ২০৩০ সালের মধ্যে আধুনিক এই টার্মিনাল চালুর লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত