শিরোনাম

যুদ্ধের মধ্যেই ইরানে ৭ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সন্ধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
যুদ্ধের মধ্যেই ইরানে ৭ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সন্ধান ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধের মধ্যেই ইরানে ৭ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সন্ধান ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে ইরান। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশে ৭ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাসের মজুত পাওয়া গেছে। এর মধ্যে প্রায় ৫ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনযোগ্য বলে জানিয়েছেন ইরানের তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ। রোববার ২৩ আগস্ট রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে পাকনেজাদ জানান, ফার্স প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন এই গ্যাসের মজুতের সন্ধান মিলেছে। মোট মজুতের পরিমাণ ২০০ বিলিয়ন ঘনমিটারের বেশি। এর মধ্যে ১৬০ বিলিয়ন ঘনমিটারের বেশি গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে।

ইরানের তেলমন্ত্রী জানান, এটি ‘সুইট ন্যাচারাল গ্যাস’—অর্থাৎ এতে বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইডের পরিমাণ কম। ফলে এ ধরনের গ্যাস উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল। যত দ্রুত সম্ভব নতুন এই সম্পদ আহরণের পরিকল্পনা করছে ইরান। তবে নতুন গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন শুরু হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

ইরানের জ্বালানি খাত যখন যুদ্ধ ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার চাপে রয়েছে, ঠিক তখনই এই আবিষ্কারকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় দেশটির গ্যাস উৎপাদনকেন্দ্র, তেল সংরক্ষণাগার ও পরিবহণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। ইরানের দাবি, হামলায় দেশটির দৈনিক গ্যাস উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় এক-চতুর্থাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের কিছু অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে অবশ্য কিছু উৎপাদন সক্ষমতা পুনরায় চালু করা হয়েছে।

যুদ্ধের আগেও নিষেধাজ্ঞা, বিনিয়োগের ঘাটতি ও বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছিল ইরানের জ্বালানি খাত। শীত মৌসুমে গ্যাস সংকটের আশঙ্কায় নাগরিকদের জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বানও জানিয়েছে দেশটি। বিশাল এই গ্যাসের মজুত ইরানের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামোর কারণে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে প্রয়োজন হবে বড় বিনিয়োগ ও দীর্ঘ সময়।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL