দীর্ঘ কর্মজীবনে এবারই প্রথম দুর্গাপূজার উপহার পেলেন মানিকগঞ্জের ঘিওর খাদ্যগুদামের শ্রমিক সর্দার জিতেন সর্দার। স্ট্রোকের কারণে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। তবু থেমে নেই তাঁর কর্মজীবন। এখনো একদল তরুণ শ্রমিককে নেতৃত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে খাদ্য বিভাগের সঙ্গে যুক্ত থাকা এই শ্রমিক প্রথমবার পূজার উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর বিকেলে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার বাসভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মানিকগঞ্জের খাদ্য বিভাগের সনাতন ধর্মাবলম্বী শ্রমিকদের হাতে দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়। এ উদ্যোগের আওতায় জেলার ৩১ জন শ্রমিককে উপহার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
অনুষ্ঠানে শ্রমিক সর্দার জিতেন সর্দার ও বলরাম সর্দারের হাতে উপহার তুলে দেন খাদ্যমন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যগুদামের কার্যক্রম সচল রাখতে শ্রমিকদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ।
জিতেন সর্দারের কর্মজীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে খাদ্য বিভাগের সঙ্গে। স্ট্রোকের কারণে দৃষ্টিশক্তি হারানোর পরও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াননি তিনি। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর এই কর্মনিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধ সহকর্মীদের কাছেও অনুপ্রেরণার উদাহরণ।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, খাদ্যগুদামের কার্যক্রম সচল রাখা এবং দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শ্রমিকদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়া এবং উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার এমন উদ্যোগ শ্রমিকদের মধ্যে উৎসাহ বাড়াবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ভারপ্রাপ্ত খন্দকার নাজমুস সাকিব, সদর এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলাল হোসেন এবং ঘিওর এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রইস উদ্দিন।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খন্দকার নাজমুস সাকিব জানান, যাঁদের শ্রমে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, সেই শ্রমিকদের বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করেছেন খাদ্যমন্ত্রী। সনাতন ধর্মাবলম্বী শ্রমিকদের জন্য এই উদ্যোগ খাদ্য বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তি।
তিনি আরও জানান, খাদ্যগুদামে কর্মরত শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী।
দীর্ঘ কর্মজীবনে প্রথমবার পূজার উপহার পাওয়া জিতেন সর্দারের এই ঘটনা শুধু একটি উপহার পাওয়ার গল্প নয়, বরং প্রতিকূলতার মধ্যেও দায়িত্ব পালন করে যাওয়া একজন শ্রমজীবী মানুষের প্রতি সম্মান জানানোর দৃষ্টান্ত।