ধর্ম-বর্ণ কিংবা ঐতিহাসিক ভূমিকা নয়, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে মানুষের প্রয়োজনকে প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছর ৪১ লাখ গৃহকর্ত্রীকে এ কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একেবারে হতদরিদ্রদের দিয়ে কার্যক্রম শুরু করে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জে এম সেন হলের দুর্গাপূজা মণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চলতি বছর ৪১ লাখ গৃহকর্ত্রীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। কারা এই কার্ড পাবেন, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ধর্ম বা বর্ণ বিবেচনা করা হবে না। যাদের প্রয়োজন রয়েছে, তারা যে ধর্মেরই হোন না কেন, যোগ্যতা অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড পাবেন।
তিনি জানান, প্রথমে হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনের ভিত্তিতে ওপরের স্তরের মানুষের কাছে এ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে এবারের দুর্গোৎসবের আয়োজন ও সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের বিষয়টিও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এবার পূজাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজকর্মী, পেশাজীবী ও স্থানীয় মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ করা যাচ্ছে। সবার অংশগ্রহণে উৎসবটি জাতীয় মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
আমির খসরু বলেন, সমাজ ও রাজনীতিতে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সব মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। একটি আধুনিক রাষ্ট্র গঠনে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষের নিরাপত্তা, ব্যবসা-বাণিজ্যের সুরক্ষা এবং ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এদিকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়ের পরিবর্তে আর্থিক প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তবে কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণের বিস্তারিত মানদণ্ড সম্পর্কে অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।