দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় দেড় মাস পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
সোমবার সকাল ১১টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তারদের ফেরানোর বিষয়টি আলোচনায় আসে।
বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ এ বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে ইতিবাচক পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার সন্দেহভাজনদের প্রত্যর্পণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, ভারত যেসব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়েছিল, বাংলাদেশ সেগুলো সরবরাহ করেছে। বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর উল্লেখ করে হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তারদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহায়ক পরিবেশ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্যের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, শেখ হাসিনার ওই বক্তব্য বাংলাদেশের বিচার বিভাগের প্রতি অবমাননাকর বার্তা দিয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর কোনো স্তম্ভকে খাটো করে এমন কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি হবে না—ভারতের সঙ্গে আলোচনার পর এ বিষয়ে তিনি কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছেন বলেও জানান।