ইরানের ওপর নতুন করে কোনো হামলা হলে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিসর এবং ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ডস কর্পস আইআরজিসি। সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর এক বক্তব্যে আইআরজিসির মুখপাত্র সেকেন্ড ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এ সতর্কবার্তা দেন। প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মোহেব্বি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো আগ্রাসন হলে দেশটির প্রতিরক্ষা ও পাল্টা হামলার কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিসরও পরিবর্তন করা হবে। তিনি দাবি করেন, নতুন সক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করবে ইরান। এসব অস্ত্র দেখে বিশ্ববাসী বিস্মিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আইআরজিসির এই মুখপাত্র আরও দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ওয়াশিংটন কৌশলগত পরাজয়ের মুখে পড়েছে। তার ভাষায়, এই পরাজয় ঐতিহাসিক হলেও যুক্তরাষ্ট্র তা স্বীকার করছে না।
মোহেব্বির বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে প্রথম দফার যুদ্ধ শুরু হয় এবং তা ১২ দিন স্থায়ী হয়। এরপর ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফার সংঘাত শুরু হয়ে এপ্রিলের শুরুতে শেষ হয়। উভয় সংঘাতেই ইরানের প্রতিরোধ ও পাল্টা হামলার কারণে যুদ্ধবিরতি হয় বলে দাবি করেন তিনি।
নতুন কোনো আগ্রাসন হলে পুরো অঞ্চলজুড়ে মার্কিন অবস্থান ও স্বার্থের ওপর ধারাবাহিক পাল্টা হামলা চালানোরও হুঁশিয়ারি দেন আইআরজিসির মুখপাত্র। হরমুজ প্রণালী নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। মোহেব্বির দাবি, দ্বিতীয় দফার যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং বিপুল সামরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র তা পুনরায় চালু করতে পারেনি।
এ ছাড়া পশ্চিম এশিয়াজুড়ে মার্কিন কৌশলগত অবস্থান ও সামরিক স্থাপনায় ইরানি হামলার দাবি করেন তিনি। পারস্য উপসাগর ও উত্তর ইরাকের আশপাশে থাকা মার্কিন গোয়েন্দা কেন্দ্রগুলোতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলেও দাবি করেন মোহেব্বি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব স্থাপনা শনাক্ত করে সেখানে হামলা চালাতে সক্ষম হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের গোয়েন্দা ব্যর্থতার প্রমাণ। তবে এসব দাবি আইআরজিসির মুখপাত্রের বক্তব্য হিসেবে এসেছে। স্বাধীনভাবে সব দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।