শিরোনাম

নেতানিয়াহুর গ্রেফতারি পরোয়ানা ঘিরে আইসিসির ওপর মার্কিন চাপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
নেতানিয়াহুর গ্রেফতারি পরোয়ানা ঘিরে আইসিসির ওপর মার্কিন চাপ ছবি: সংগৃহীত
নেতানিয়াহুর গ্রেফতারি পরোয়ানা ঘিরে আইসিসির ওপর মার্কিন চাপ ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। আদালতের কয়েকজন বিচারক ও কৌঁসুলির ওপর আগের নিষেধাজ্ঞার পর এবার পুরো প্রতিষ্ঠানটিকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ ঘোষণা দেন। এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থাকে ঘিরে ওয়াশিংটন ও আইসিসির বিরোধ আরও তীব্র হলো।

নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময় রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে আইসিসিকে আর সুযোগ দেওয়া হবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে আদালতের সম্পদ ও অর্থায়নের পথ সীমিত করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করার সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত করা হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও মার্কিন নাগরিকেরা আইসিসির বিচারিক এখতিয়ারের অধীন নন।

ট্রাম্প প্রশাসন এই পদক্ষেপের পেছনে দুটি প্রধান কারণ তুলে ধরেছে। প্রথমত, আফগানিস্তানে সংঘটিত কথিত নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় আইসিসির তদন্ত। এই তদন্তের আওতায় মার্কিন সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের বিষয়ও আসতে পারে। দ্বিতীয়ত, গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেফতারি পরোয়ানা।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির কয়েকজন বিচারক ও কৌঁসুলির পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘের একজন বিশেষ প্রতিবেদক এবং কয়েকটি ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। তবে এবার সরাসরি আদালতকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার ফলে প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তি সরবরাহকারী, সেবা প্রদানকারী এবং অন্যান্য সহযোগী সংস্থাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

আইসিসি যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। আদালতের উপকৌঁসুলি নাজহাত শামীম খান বলেন, নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক আইনের শাসন এবং একটি স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম দুর্বল করা। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এসব পদক্ষেপের মধ্যেও আদালতের তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আইসিসির সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতিও আদালতের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। আদালতের আশঙ্কা, নিষেধাজ্ঞার কারণে অর্থনৈতিক লেনদেন, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৯০০ কর্মী কাজ করেন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আইসিসির প্রতিষ্ঠাকালীন চুক্তি রোম সংবিধির সদস্য নয়। তবে আইসিসির অবস্থান হলো, সদস্যরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে সংঘটিত আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার আদালতের রয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি সদস্য নয় এমন দেশের নাগরিক হলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই এখতিয়ার প্রযোজ্য হতে পারে। এই আইনি ব্যাখ্যার ভিত্তিতেই আফগানিস্তানের ঘটনা তদন্ত এবং গাজা-সংক্রান্ত মামলায় পদক্ষেপ নিয়েছে আদালত।

এদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে আইসিসি। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আদালত কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারে।

তবে নিষেধাজ্ঞার প্রকৃত প্রভাব কতটা হবে, তা এখনই নিশ্চিত নয়। আদালতের কার্যক্রম সচল রাখতে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ শুধু আইসিসির ভবিষ্যৎ নয়, আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা ও আইনের শাসন নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL