১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪৫ বছর পর আবারও আলোচনায় এসেছে মামলার বেসামরিক বিচারিক প্রক্রিয়া। পলাতক আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন গ্রেপ্তার হওয়ার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা বেসামরিক মামলাটি কি আবারও সচল হতে পারে?
হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর কোর্ট মার্শালে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। কিন্তু একই ঘটনায় চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলার তদন্ত দুই দশক চললেও অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়নি। পরে সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাব দেখিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে মামলাটি কার্যত নিষ্পত্তি করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯৮১ সালে আন্তঃসংস্থা সমন্বয় সভার সিদ্ধান্তে সেনাবাহিনী তদন্তের দায়িত্ব নেওয়ায় পুলিশের তদন্ত আর এগোয়নি। ফলে বেসামরিক বিচারিক প্রক্রিয়া কার্যত থেমে যায়। বর্তমানে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মফিজুল হক ভূঁইয়া জানিয়েছেন, মামলার নথি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। প্রয়োজন মনে করলে বেসামরিক আদালতে নতুন করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন,
- কুয়াকাটায় আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ!পর্যটক কে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ:তদন্তের দাবি
- আগের হারেই বহাল ২০২৬ সালের বীমা নবায়ন ফি
- ওরে নিয়ে আমি একবারই এসেছি: গাজী নজরুল ইসলাম
সাম্প্রতিক তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হত্যাকাণ্ডের আগে চট্টগ্রামের কালুরঘাটে বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তাদের একটি গোপন বৈঠক হয়েছিল, যেখানে গ্রেপ্তার হওয়া মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন উপস্থিত ছিলেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। এদিকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে নিরাপত্তা ব্যর্থতা, বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন এবং ব্যবহৃত আলামতের অবস্থানসহ বহু প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। মোজাফফর হোসেনের গ্রেপ্তারের পর পুরোনো সেই মামলার নথি উদ্ধার এবং সম্ভাব্য নতুন আইনি পদক্ষেপ নিয়ে আবারও শুরু হয়েছে আলোচনা।