ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে দেশের অন্যতম আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত হলেও, এর কেরানীগঞ্জ অংশটি বর্তমানে রূপ নিয়েছে এক বিশাল ময়লার ভাগাড়ে। এক্সপ্রেসওয়ের দুই পাশ, সার্ভিস লেন এবং সড়কের মাঝখানের আইল্যান্ড জুড়ে দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিতভাবে জমে থাকা বর্জ্যের স্তূপ স্থানটিকে এক বিভীষিকাময় রূপ দিয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট ২০২৬) সরেজমিনে দেখা যায়, সাম্প্রতিক মুষলধারে বৃষ্টির ফলে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পচে চারপাশের বাতাসে তীব্র পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানি ও পচা বর্জ্য মিশ্রিত বিষাক্ত কাদা সার্ভিস লেন ও মহাসড়কের একাংশে ছড়িয়ে পড়ায় পথচারী ও যান চলাচলে তীব্র অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে যাতায়াতকারী গণপরিবহনের যাত্রী, ব্যক্তিগত গাড়ির চালক এবং স্থানীয় পথচারীদের প্রতিনিয়ত নাকে রুমাল বা হাত চেপে চলাফেরা করতে হচ্ছে।
দূষিত এই স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ পুরো কেরানীগঞ্জ এলাকাকে এক বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বর্জ্যের স্তূপে মশা-মাছির বংশবৃদ্ধি ঘটায় এলাকায় ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়াসহ অন্যান্য মশাবাহিত এবং পানিবাহিত ছোঁয়াচে রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে স্বাস্থ্যগত জটিলতা সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধির ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ—যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো তদারকি নেই। মহাসড়কের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম জাতীয় স্পর্শকাতর স্থানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করলেও এমন অনভিপ্রেত অবস্থা নিরসনে কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ দৃশ্যমান হচ্ছে না।
জনসাধারণের ভোগান্তি লাঘব, পথচারীদের সুরক্ষার স্বার্থে এবং এলাকাটিকে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে অনতিবিলম্বে এসব বর্জ্য অপসারণের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একটি বাসযোগ্য, নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতে মহাসড়ক ও কেরানীগঞ্জের সংশ্লিষ্ট পরিচ্ছন্নতা কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।