শিরোনাম

কেরানীগঞ্জ মডেল টাউনে এক সিঙ্গাপুর প্রবাসীর অমানবিক নির্যাতন

পরকীয়া, যৌতুক ও দোকান দেওয়ার দাবিতে দুই বছর ধরে বিছানায় শায়িত স্ত্রী, বন্ধ দুই সন্তানের ভরণপোষণ

আব্দুর রহমান মোল্লা আব্দুর রহমান মোল্লা
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
পরকীয়া, যৌতুক ও দোকান দেওয়ার দাবিতে দুই বছর ধরে বিছানাসায়ী স্ত্রী, বন্ধ দুই সন্তানের ভরণপোষণ ছবি: বাংলাদেশ যুগান্তর
পরকীয়া, যৌতুক ও দোকান দেওয়ার দাবিতে দুই বছর ধরে বিছানাসায়ী স্ত্রী, বন্ধ দুই সন্তানের ভরণপোষণ ছবি: বাংলাদেশ যুগান্তর

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল টাউন এলাকায় এক হৃদয়বিদারক ও লোমহর্ষক ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। ভালোবাসার টানে গড়া দীর্ঘ ২৩ বছরের দাম্পত্য জীবন এখন এক নিষ্ঠুর প্রবাসীর পরকীয়া ও নির্যাতনের বলি হয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সিঙ্গাপুর প্রবাসী স্বামীর পরকীয়া এবং মোটা অঙ্কের যৌতুকের দাবির জেরে শারীরিক নির্যাতনে মেরুদণ্ড ভেঙে গত দুই বছর ধরে শয্যাশায়ী রয়েছেন এক অসহায় গৃহবধূ।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত স্বামী দীর্ঘদিন ধরে সিঙ্গাপুরে প্রবাস জীবন যাপন করছেন। সেখানে প্রবাসে থাকাকালীন তিনি পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন এবং সিঙ্গাপুরেই অন্য এক নারীর সাথে সংসার পাতার পরিকল্পনা করেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রবাসে ওই নারীর সাথে থাকতে স্ত্রীকে বাপের বাড়ি থেকে ৫ লাখ টাকা নগদ যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য নিয়মিত চাপ দিতে থাকেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, স্ত্রীকে আরও চাপ দিয়ে বলা হতো—"তোর বোনজামাইকে বলে ৭ লাখ টাকা জোগাড় করে আমাকে একটি দোকান দেওয়াস।"

​এ বিষয়ে অসহায় স্ত্রী বারবার কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে স্বামীকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, তাঁর বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই এবং বাপের বাড়ি থেকে এমন বড় অংকের টাকা বা দোকান পাওয়ার কোনো সামর্থ্য বা সুযোগ তাঁর নেই। এরপরও যৌতুকের এই জিদ বজায় রেখে স্বামী দেশে ফিরে আসেন এবং স্ত্রীর ওপর চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান। একপর্যায়ে স্বামীর নির্মম লাথির আঘাতে ওই গৃহবধূর মেরুদণ্ড মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

​গুরুতর আহত অবস্থায় গত দুই বছর ধরে তিনি বিছানাসায়ী জীবন কাটাচ্ছেন। নিজের দুর্বিষহ চিকিৎসা ব্যয় মেটানোর তো প্রশ্নই আসে না, উল্টো এই সংকটময় সময়েও দুই সন্তানের কোনো ধরনের ভরণপোষণ দিচ্ছেন না অভিযুক্ত স্বামী। কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা বা খোঁজখবর না নেওয়ায় অবহেলা ও অনাহারে মানবেতর দিন কাটছে ওই মা ও তার অবুঝ সন্তানদের।

​কেরানীগঞ্জ মডেল টাউনের স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলে এই পৈশাচিক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত প্রবাসীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ওই গৃহবধূর সুচিকিৎসা ও দুই সন্তানের ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL