রোববার দুপুর ১২টায় পাবনা জেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে মানববন্ধন থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পাবনা আদালত চত্বরে প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা কলি হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কলি ছিল মাত্র ১০ বছরের শিশু। তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মামলার বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা মোছাঃ পারুল আক্তার বলেন, আমাদের মেয়ের হত্যাকারীর দ্রুত ফাঁসি চাই। প্রশাসন যদি না পারে তাহলে আমাদের হাতে তুলে দেওয়া হোক।মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কলির প্রতিবেশী বলেন, এই ধর্ষণকারী একজন নিকৃষ্ট ব্যক্তি। যে এই শিশুটিকে ধর্ষণ ও মেরে ফেলে সাতদিন ধরে বস্তাবন্দি অবস্থায় রেখেছিল। আমি এই খুনির ফাঁসি চাই।নিহত কলির এক সহপাঠীর অভিভাবক মোছা. উর্মি খাতুন বলেন, কলি আমাদের সন্তানদের সঙ্গে পড়াশোনা করতো। তার এমন মৃত্যু আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। দ্রুত বিচার শেষ করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক এটাই আমাদের দাবি।এর আগে কলি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক (৫৫) ও মোস্তফার ভাড়াটিয়া ইয়াছিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৯ সেপ্টেম্বর কলিকে মোস্তফার মুদি দোকানের পেছনের একটি ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরে মরদেহ বস্তাবন্দি করে রাখা হয়। পরে মরদেহটি বাড়ির পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমাদের পুলিশের চার্জশিট অতিদ্রুত কোর্টে প্রেরণ করবো।
আসামিদের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমারা এখন পর্যন্ত দুজনকে আটক করেছি এবং তারা অপরাধ স্বীকার করেছে। এখনো জিজ্ঞাসাবাদ চলছে যদি আরো কেউ জড়িত থাকে তাহলে তাদেরকেও গ্রেপ্তার করা হবে। আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা জেলা পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করতে চাই যে পুলিশ তৎপর ছিল জন্যই আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। পুলিশের বিন্দুমাত্র গাফলতি ছিল না।
উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় কামরুন্নাহার কলি। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। নিখোঁজের সাত দিন পর গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলুনিয়া গ্রামে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় কলির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।