নওগাঁর পোরশায় দস্যুতার প্রস্তুতিকালে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় তৈরি ধারালো চেইন, হ্যান্ডেল চেইন, দড়ি ও টর্চলাইটসহ দস্যুতায় ব্যবহারের বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে নওগাঁর পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম-এর নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), নওগাঁর একটি টিম পোরশা থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ডাকাতি, দস্যুতা ও ছিনতাই প্রতিরোধে টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছিল।
অভিযান চলাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ জানতে পারে, পোরশা থানাধীন শিশা বাজারের পূর্ব পাশে মাটিয়ান্দর সেতুর কাছাকাছি সড়কে দড়ি ফেলে দস্যুতার প্রস্তুতি নিচ্ছে কয়েকজন ব্যক্তি। পুলিশ জানায়, স্থানীয়ভাবে তারা একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে পরিচিত। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের অভিযানিক দল মাটিয়ান্দর সেতুর কাছাকাছি এলাকায় পৌঁছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা তাদের মোটরসাইকেল ফেলে পাশের জঙ্গলের দিকে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় অভিযান পরিচালনাকারী দলের সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে আটক করেন।
পরে উপস্থিত পথচারী ও স্থানীয় লোকজনের সামনে আটক ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা জিজ্ঞাসাবাদ ও দেহ তল্লাশি করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের পরিচয় দেয়—
১. দেলোয়ার হোসেন (২৮), পিতা—তরিকুল ইসলাম, গ্রাম—হলাকান্দর, থানা—পত্নীতলা, জেলা—নওগাঁ।
২. নাইম মাহমুদ (১৯), পিতা—মাসুদুর রহমান, গ্রাম—ছোট কাটনা, থানা—পোরশা, জেলা—নওগাঁ।
৩. মোস্তাকিম (১৯), পিতা—মাহবুল সোনার, গ্রাম—সমনগর, থানা—পোরশা, জেলা—নওগাঁ।
পুলিশের দাবি, দেহ তল্লাশিকালে প্রথম আসামি দেলোয়ার হোসেনের কাছ থেকে দেশীয় তৈরি ধারালো চেইন ও লম্বা হ্যান্ডেল চেইন, দ্বিতীয় আসামি নাইম মাহমুদের কাছ থেকে দেশীয় তৈরি হ্যান্ডেল চেইন এবং তৃতীয় আসামি মোস্তাকিমের হাতে থাকা একটি শপিং ব্যাগের ভেতর থেকে ২৫ ফুট দৈর্ঘ্যের দড়ি ও একটি ছোট টর্চলাইট উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া দস্যুতার কাজে ব্যবহারের অভিযোগে তাদের কাছ থেকে একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পোরশা থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, পোরশা উপজেলাসহ নওগাঁ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি, দস্যুতা ও ছিনতাই প্রতিরোধে নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।