মোঃ মারুফ চৌধুরী:
আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ ইং সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা জানুয়ারির পরিবর্তে পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর শেষে মার্চ মাসে আয়োজনের জোরালো দাবি উঠেছে অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষার্থীদের পক্ষ হতে। নির্ধারিত সময়ের আগে পরীক্ষা শুরু হলে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে ঘাটতি এবং রমজান মাসে চরম ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে ২০২৭ইং সালের এসএসসি পরীক্ষা আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে শুরু করার একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে যাচ্ছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মূল উদ্বেগগুলো ১. প্রস্তুতির ঘাটতি: জানুয়ারিতে পরীক্ষা হলে শিক্ষার্থীরা সিলেবাস শেষ করার পর্যাপ্ত সময় পাবে না।২. রমজানের ধকল: পরীক্ষা রমজান মাসের ভেতরে গড়ালে তীব্র গরম ও রোজা রেখে শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষা দেওয়া প্রচণ্ড কষ্টকর হবে।৩. যাতায়াত ও উৎসবের চাপ: ঈদের ঠিক আগে বা মাঝে এত বড় একটি পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে যাতায়াত ব্যবস্থা এবং উৎসবের আমেজে পড়াশোনার পরিবেশ বিঘ্নিত হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকার একটি স্বনামধন্য স্কুলের এক অভিভাবক বলেন, "করোনা-পরবর্তী ক্ষতি পুষিয়ে নিতে গিয়ে তড়িঘড়ি করে পরীক্ষা এগিয়ে আনা হচ্ছে। কিন্তু সন্তানদের মানসিক চাপ ও প্রস্তুতির কথা চিন্তা করে পরীক্ষাটি রোজার পর মার্চে নেওয়া অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত।"
কী ভাবছেন বিষয়টি নিয়ে শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা?
জানুয়ারির পরিবর্তে মার্চে পরীক্ষা নেওয়ার এই যৌক্তিক দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদেরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক উপাচার্য ও শিক্ষাবিদ বলেন:
"পরীক্ষা এগিয়ে এনে সেশনজট কমানোর উদ্যোগ ভালো, তবে তা যেন শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি না করে। ফেব্রুয়ারি মাসে রমজান শুরু হওয়ায় জানুয়ারিতে পরীক্ষা নেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা উৎসব ও ধর্মীয় আবহের মধ্যে পড়াশোনায় মনোযোগ হারাতে পারে। শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও ভালো ফলের স্বার্থে রমজান ও ঈদের পর মার্চ মাসে পরীক্ষা নেওয়াটাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হবে।"
এদিকে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান:
"জানুয়ারিতে পরীক্ষা নেওয়ার একটি প্রাথমিক রূপরেখা ভাবা হয়েছিল ঠিকই, তবে আমরা পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগের বিষয়টি অবগত আছি। রমজান মাসের পবিত্রতা এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও প্রস্তুতির কষ্টের কথা বিবেচনা করে পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দ্রুতই জানিয়ে দেওয়া হবে।"
ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই দাবি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং পড়াশোনার পূর্ণ প্রস্তুতির স্বার্থে পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। রমজান ও ঈদের ছুটি শেষে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষা আয়োজন করলে শিক্ষার্থীরা স্বস্তিতে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।
এ বিষয়ে দ্রুত শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সদয় দৃষ্টি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা।