অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইউরোপীয় কূটনীতিকদের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ফ্রান্সের ৭৮ বছর বয়সী এক মেয়রকে মারধর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এর একদিন আগে একই অঞ্চলে হামলার শিকার হন যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক আলোকচিত্রী।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিম তীরে বর্তমানে জলপাই সংগ্রহের মৌসুম চলছে। তবে বসতি স্থাপনকারীদের বাধার মুখে পড়ছেন ফিলিস্তিনি কৃষকেরা। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং কৃষকদের সঙ্গে সংহতি জানাতে শনিবার সেখানে যান ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও পোল্যান্ডের কূটনীতিকদের একটি প্রতিনিধি দল। ওই দলে ছিলেন ফ্রান্সের ওলনোয়া-আইমেরিজ শহরের মেয়র বার্নার্ড বোদুও।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া বক্তব্যে মেয়র বোদুও জানান, ফিলিস্তিনি কৃষকদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার সময় মুখোশধারী বসতি স্থাপনকারীরা ফ্রান্সকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করছিল। একপর্যায়ে তাঁকে লাথি ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। হামলার পর তাঁকে একটি গাড়ির পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
ঘটনার পর ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো ইসরায়েলকে জরুরি ভিত্তিতে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তিনিও হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
এর আগে শুক্রবার বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় আহত হন দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের আলোকচিত্রী হেইডি লেভিন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন তিনি।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়ে যেসব ছবি সামনে আসছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেখানে আর কোনো সংঘাত দেখতে চান না।
এদিকে ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর নির্বাচন হওয়ার কথা। এর আগে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক সমর্থকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত এসব বসতি স্থাপনকারীকে ঘিরে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।