সংবাদ শিরোনামঃ

দাবানলে জ্বলছে ইউরোপ, গ্রিস-ফ্রান্স-স্পেনে ভয়াবহ পরিস্থিতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
দাবানলে জ্বলছে ইউরোপ, গ্রিস-ফ্রান্স-স্পেনে ভয়াবহ পরিস্থিতি ছবি: সংগৃহীত
দাবানলে জ্বলছে ইউরোপ, গ্রিস-ফ্রান্স-স্পেনে ভয়াবহ পরিস্থিতি ছবি: সংগৃহীত

প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ, বৃষ্টির অভাব ও শক্তিশালী বাতাসে ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চল। শনিবার গ্রিসের একাধিক এলাকায়, এমনকি রাজধানী এথেন্সের আশপাশেও বড় আকারের অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে শত শত দমকলকর্মী, অগ্নিনির্বাপণ যান, ভারী যন্ত্রপাতি ও আকাশযান মোতায়েন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

গ্রিসের বোয়োতিয়া অঞ্চলে তিন শতাধিক দমকলকর্মী ৯২টি অগ্নিনির্বাপণ যান নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। এথেন্স থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে আগিওস ভাসিলিওস শহর থেকে দুই শতাধিক মানুষকে সমুদ্রপথে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পোর্তো জারমেনো সৈকত থেকেও ১২ জনকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড। গ্রিসের আত্তিকা ও এভিয়া অঞ্চলে চরম দাবানল ঝুঁকির সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। আর্গোলিদা ও আর্তা অঞ্চলেও রাতভর আগুন নেভানোর অভিযান চালানো হয়েছে।

এদিকে ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ভার অঞ্চলে কয়েক দিন আগে নিয়ন্ত্রণে আসা দাবানল আবারও ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ে। মাত্র ছয় ঘণ্টায় এক হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে যায়। প্রবল বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে দমকল বাহিনীকে। নিরাপত্তার জন্য রাতারাতি প্রায় আড়াই হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্পেনেও একাধিক দাবানল সক্রিয় রয়েছে। উত্তরাঞ্চলের লেওন প্রদেশে নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে জামোরা ও কাস্তেয়োন অঞ্চলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় সরিয়ে নেওয়া বাসিন্দাদের অনেককে বাড়ি ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কাস্তেয়োনের একটি দাবানলের পেছনে অগ্নিসংযোগের সন্দেহ করছে পুলিশ।

শুধু দাবানল নয়, তীব্র তাপপ্রবাহও ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি তৈরি করছে। অস্ট্রিয়ায় জুন মাসে তাপজনিত ৩৯৫ জনের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৮৭৭ জন এবং ফ্রান্সে জুনের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের শুরু পর্যন্ত ৫ হাজার ৭৬৪ জনের মৃত্যু উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানানো হয়েছে। জার্মানিতেও এ বছর প্রায় ৯ হাজার ৮০০ জনের মৃত্যু উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

তীব্র তাপ ও খরার প্রভাব পড়েছে ইউরোপের নদ-নদীতেও। দানিউব নদীর পানি রেকর্ড পরিমাণ কমে যাওয়ায় হাঙ্গেরিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সার্বিয়ায় জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। ব্যাহত হচ্ছে নদীপথে পণ্য পরিবহনও। রোমানিয়ায় নদীর পানি কমে যাওয়ায় একটি পারমাণবিক চুল্লি বন্ধ করা হয়েছে। আরেকটি চুল্লিও বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে দেশটির মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ উৎপাদন প্রভাবিত হতে পারে। আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিস্থিতির এই ভয়াবহতা ইউরোপে চলতি গ্রীষ্মে দাবানল, তাপপ্রবাহ ও পানির সংকটের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশে জরুরি উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

বিষয়:

দাবানল
এলাকার খবর

সম্পর্কিত