ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণার পর দেশটির রাজধানী তেহরানে পেট্রল স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। নতুন অর্থনৈতিক চাপের কারণে দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন দেশটির বাসিন্দারা। সোমবার ইরানের ওপর ‘অর্থনৈতিক শ্বাসরোধ’ তৈরির পরিকল্পনার কথা জানান মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তিনি বলেন, ইরান সরকারকে টিকিয়ে রাখছে এমন অর্থনৈতিক পথগুলো বন্ধ করাই নতুন পদক্ষেপের লক্ষ্য।
নতুন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ইরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়লেও দেশটির নেতারা মার্কিন হুমকিকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তেহরানের অনেক বাসিন্দার আশঙ্কা, নিষেধাজ্ঞার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাতেই পড়বে। তেহরানের এক আবাসন ব্যবসায়ী বলেন, নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ধনী-গরিব সবার ওপরই পড়ে। তিনি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তবে তার মতে, ইরানের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিখেছে।
এরই মধ্যে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে ইরানে আগে থেকেই অসন্তোষ রয়েছে। জানুয়ারিতে দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভও ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল। নতুন অর্থনৈতিক চাপ আবারও বিক্ষোভ উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। ইরানের এক ইংরেজি শিক্ষক বলেন, যুদ্ধ নিয়ে তার ভয় নেই। তবে সংঘাত যদি অর্থনৈতিক রূপ নেয়, তাহলে মানুষের ওপর চাপ অনেক বেড়ে যেতে পারে এবং এর ফলে আবারও বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতা আরও বাড়িয়েছে। ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, সোনা, বিমান চলাচল ও নৌপরিবহন খাতেও নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের তেল বিক্রির আয়, অস্ত্র সংগ্রহ ও সাইবার কার্যক্রমে সহায়তার অভিযোগে প্রায় ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং, চীন, সিঙ্গাপুর ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের কিছু প্রতিষ্ঠানও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে।
ইরানের অন্যতম বড় তেল ক্রেতা চীন নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছে। বেইজিং জানিয়েছে, নিজেদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তবে মার্কিন অর্থমন্ত্রী সতর্ক করেছেন, ইরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে সহায়তা করা চীনা ব্যাংকও ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে। তেহরান অবশ্য নতুন নিষেধাজ্ঞাকে বড় কোনো হুমকি হিসেবে দেখছে না। ইরানের অর্থমন্ত্রী আলি মাদানিজাদেহ জানিয়েছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরকার প্রস্তুত এবং দুই বছরের একটি পরিকল্পনাও রয়েছে।
ইরানের অর্থনীতিবিদ সাঈদ লায়লাজের মতে, নতুন নিষেধাজ্ঞা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের আগের পদক্ষেপগুলোরই ধারাবাহিকতা। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞায় ইরানের অর্থনীতি অনেকটাই স্বনির্ভর হয়ে উঠলেও দুর্নীতি, ব্যাংকিং সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এদিকে নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও কমেছে। মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমে যায়।