রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় পর্যায়ে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পের পরিবর্তে ৪৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এক নোটিশের জবাবে বিদ্যুৎ খাতের সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরার সময় তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় পর্যায়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিবর্তে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাতারবাড়ী কোল পাওয়ার প্রকল্পের অব্যবহৃত অ্যাশ পন্ড এলাকায় ৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরও একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। সংসদে তিনি জানান, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্পায়নের ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ২৪ থেকে ২৫ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। এ চাহিদা পূরণে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।
জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। এই লক্ষ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট এবং ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বায়ু, বর্জ্য, পানি ও ভাসমান সৌরবিদ্যুৎসহ অন্যান্য প্রযুক্তি থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ বাড়াতে প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারি আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। আগামী ছয় মাসে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে সরকার কিনে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করবে বলেও জানান তিনি।