শিরোনাম

সরকারের সুরক্ষার জন্য সাইবার আইন করা হচ্ছে: আখতার হোসেন

বাংলাদেশ যুগান্তর ডেস্ক বাংলাদেশ যুগান্তর ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
সরকারের সুরক্ষার জন্য সাইবার আইন করা হচ্ছে: আখতার হোসেন ছবি: সংগৃহীত
সরকারের সুরক্ষার জন্য সাইবার আইন করা হচ্ছে: আখতার হোসেন ছবি: সংগৃহীত

জনগণের সুরক্ষার পরিবর্তে সরকারের সুরক্ষার জন্য সাইবার সুরক্ষা আইন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। সাইবার সুরক্ষার নামে নাগরিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ভয়েস ফর রিফর্মসহ একাধিক সংগঠনের আয়োজনে ‘সাইবার সুরক্ষা, না কণ্ঠরোধ’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে এসব কথা বলেন আখতার হোসেন।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করায় ময়মনসিংহের ভালুকায় সাথী আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সরকারের দেওয়া তথ্যের বাইরে অন্য কোনো তথ্য প্রচারিত হোক, সরকার তা চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ ছাড়া গুম কমিশনসহ বিভিন্ন কমিশনকে সরকারের অনুগত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য আইন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আখতার হোসেন।

আইজিপির ক্রসফায়ারসংক্রান্ত বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এ বক্তব্যকে সরকারের বক্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এ জন্য আইজিপিকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিও জানান তিনি।

সংলাপে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান কামাল আহমেদ বলেন, অপরাধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে আইনে আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। জুয়া ও প্রতারণার মতো অপরাধ থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকার, রাজনীতি বা নীতির সমালোচনাকে মানহানির আওতায় না আনার আহ্বান জানান তিনি।

ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম বলেন, অনলাইনে অপতথ্য ও মিথ্যা প্রচারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাইবার সুরক্ষা আইন প্রয়োজন। তবে নতুন করে গুজব ও অপতথ্যসংক্রান্ত ধারা যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সঙ্গে মানহানির বিষয়টি সাইবার আইন থেকে আলাদা করে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে মত দেন।

গুম কমিশনের সাবেক সদস্য নাবিলা ইদ্রিস আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধনীর মাধ্যমে সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের সুযোগ আরও বাড়তে পারে।

অল্টারনেটিভের সংগঠক ডা. তাজনূভা জাবিন অভিযোগ করেন, সরকারের সমালোচনার ক্ষেত্রে দ্রুত গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটলেও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং সাইবার বুলিংয়ের শিকার নারীদের সুরক্ষায় পর্যাপ্ত উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারও সাইবার আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে ভয়েস ফর রিফর্মের সহসমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর প্রস্তাবিত সংশোধনীতে গুজব ও অপতথ্য যাচাইয়ের স্পষ্ট প্রক্রিয়া, কনটেন্ট অপসারণের ক্ষমতা এবং কর্মকর্তাদের দায়মুক্তির বিধান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

সংলাপে বক্তারা সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL