১৭ জুলাই ২০২৪ জীবনে প্রথম পুলিশের হাতে মার খেয়েছিলাম। ডান হাতে রক্ত জমাট বেঁধে কালো হয়েছিলো কিছু জায়গায়। ৫ আগস্ট দুপুরে আশ্চর্যজনকভাবে ব্যথা গায়েব হয়ে গেলো! নতুন এক ঢাকা দেখলাম, সম্পূর্ণ পুলিশ বিহীন!! সবাই পেয়েছে স্বাধীনতার স্বাদ, আমি বাড়তি পেয়েছি মালিকানার স্বাদ। পড়ন্ত বিকেলে জনগণের সাথে, আর্মির গাড়ি পাশে রেখে যতদূর হেঁটেছি, প্রতি কদমে প্রমাণ পেয়েছি- কোন শাসক বা প্রশাসক নয়, দেশের মালিক জনগণ। তারা সবসময় রাস্তায় নামে না। কিন্তু ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যেদিন নামে, সেদিন শাসক-প্রশাসক ছারখার করে দিয়ে মালিকানা বুঝে নিতে দেরী করে না।
হাতে ব্যথা এখনও মাঝে মাঝে অনুভূত হয়। থাকুক সে ব্যথা, গর্বের প্রতীক হয়ে। রাস্তায় পড়ে থাকা রক্তের ফোঁটার কাছে, এক মুহূর্তের মালিকানা স্বাদের কাছে এই ব্যথা অতি তুচ্ছ। কি পেলাম, কি পেলাম না, কি হওয়া উচিত ছিলো আর কি হচ্ছে- এসব হিসেব নিকেশ চলছে, চলবে। কিন্তু, যতখানি প্রতিবাদ করার সামর্থ্য ছিলো, ততটা করেছি; এই মানসিক প্রশান্তির কাছে সব হিসেব বেমানান। ঘরের কোণে ঘাপটি মেরে বসে থাকা প্রাণী কিংবা দেশের বাইরে পালিয়ে থাকা প্রাণীর পক্ষে সে প্রশান্তি অনুধাবন করা সম্ভব নয়।
সালাম ও দুয়া সেই সব অকুতোভয় শহীদদের, যাদের উসিলায় আজও প্রতিবাদের ভাষা নিয়ে বেঁচে আছি। সেদিনও মরতে পারতাম, আল্লাহ যেহেতু হায়াত দিয়েছেন সামনে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পিছপা হবো কেন??
বেঁচে থাকুক ৩৬ জুলাই.....বেঁচে থাকুক প্রতিবাদী বাংলাদেশ......🇧🇩🇧🇩🇧🇩