শিরোনাম

ইউক্রেনের হামলায় বিপর্যস্ত রাশিয়ার ইয়ানডেক্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
ইউক্রেনের হামলায় বিপর্যস্ত রাশিয়ার ইয়ানডেক্স ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের হামলায় বিপর্যস্ত রাশিয়ার ইয়ানডেক্স ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের হামলায় বিপর্যস্ত রাশিয়ার শীর্ষ প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ইয়ানডেক্সের একাধিক তথ্যকেন্দ্র। এতে আর্থিক লেনদেন, ট্যাক্সি পরিষেবা, খাবার অর্ডার ও ফাইল সংরক্ষণসহ দৈনন্দিন নানা ডিজিটাল সেবা ব্যাহত হয়েছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখো রুশ নাগরিক। ইউক্রেনের ইন্টারনেট অবকাঠামোয় রাশিয়ার হামলার জবাবে কিয়েভ এই পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ইয়ানডেক্সকে প্রায়ই ‘রাশিয়ার গুগল’ বলা হয়। দেশটির মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চলতি মাসের শুরুতে কয়েক দিনের ব্যবধানে ইয়ানডেক্সের পাঁচটি প্রধান তথ্যকেন্দ্রের মধ্যে তিনটি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এরপর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন সেবা ব্যবহারে সমস্যায় পড়েন গ্রাহকেরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে জানান, তারা ট্যাক্সি ডাকতে, খাবার অর্ডার করতে এবং ফাইল সংরক্ষণের সেবা ব্যবহার করতে পারছেন না। এমনকি ডিজিটাল চাবি কাজ না করায় কেউ কেউ নিজের ঘরেও প্রবেশ করতে পারেননি।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ইয়ানডেক্স পের ব্যবহারকারীরা। সেন্ট পিটার্সবার্গের ব্লগার ইরিনা জানান, টানা চার দিন নিজের জমানো টাকা তুলতে পারেননি তিনি। এতে বাড়িভাড়া পরিশোধ ও সন্তানের খাবার কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, মস্কোর তিন ট্যাক্সিচালক জানান, অ্যাপ বন্ধ থাকায় তাঁরা আয়ের হিসাব দেখতে কিংবা উপার্জিত অর্থ তুলতে পারেননি।

গত ৯ অক্টোবর ইয়ানডেক্স জানায়, হামলায় তাদের কোনো কর্মী হতাহত হননি। ক্ষতিগ্রস্ত সেবাগুলো স্বাভাবিক করার কাজ চলছে বলেও জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

তবে এ ঘটনায় ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করেননি। তিনি বলেন, ইয়ানডেক্স একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। তাই ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনার সময় এখনো আসেনি।

ইয়ানডেক্স ছাড়াও সম্প্রতি রাশিয়ার বৃহত্তম ব্যাংক সারবারব্যাংক এবং প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ভিকে-এর তথ্যকেন্দ্রেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এর আগে ইউক্রেনের তথ্যকেন্দ্রগুলোতে হামলা জোরদার করে রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বক্তব্য অনুযায়ী, ইউক্রেনীয়দের ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন করার রুশ প্রচেষ্টার জবাবেই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।

এ ছাড়া রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ইউক্রেন এখন তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোকে নতুন লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের প্রভাব দেশ দুটির ডিজিটাল সেবা ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও ছড়িয়ে পড়ছে।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL