স্টাফ রিপোর্টার : মোঃ আনোয়ার হোসেন বাচ্চু
গত মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের দ্বিতীয় তলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) কর্তৃক আয়োজিত "সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে-সরকার ও জনগণের করণীয় শীর্ষক" সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ও জাসাস'র কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা হেলাল খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এমপি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.কামরুল আহসান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাইদ সোহরাব।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন,সরকার বিরোধী মতপ্রকাশ করলেই কাউকে ধরে আনা কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে আইন প্রয়োগের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরো বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধীদলের সরকারের সমালোচনা করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। সরকারের প্রতিটি কাজের গঠনমূলক সমালোচনা হলে সরকারও নিজেদের ভুল-ত্রুটি বুঝতে পারে। তবে বিরোধীদলকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সংকট শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যা নয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরকেন্দ্রিক সংঘাত এবং এলএনজি আমদানিতে প্রতিবন্ধকতার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর সঙ্গে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটিও সংকটকে আরও জটিল করেছে।
তিনি জানান, সংকট মোকাবিলায় সরকার অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে দ্রুত গ্যাস সংগ্রহের চেষ্টা চলছে এবং মহেশখালীর টার্মিনালের ত্রুটি মেরামতের কাজও চলছে। রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে জনগণকে বিভ্রান্ত ও রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কোনো রাজনৈতিক দল সরকারের সমালোচনা করলে শুধু সমস্যা তুলে না ধরে সমাধানের পথও দেখাতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গুলো কে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, পুলিশ, আদালত, গণমাধ্যম, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত ও স্বাধীনভাবে পরিচালনা করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে আইন প্রয়োগ করা হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি আরও বলেন, একটি নতুন নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দেশ যাচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় পুলিশ প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে। তাই দলীয় স্বার্থের বাইরে থেকে এসব প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলকভাবে পরিচালনা করতে হবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি বিএনপি'র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক হেলাল খান তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার গ্যাস বিদ্যুতের এই সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য সকল অংশীজনদের নিয়ে চেষ্টা করছেন এবং ইনশাল্লাহ খুব দ্রুত সময়ে এই সমস্যার সমাধান হবে। তবে আমাদেরকে অবশ্যই গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে অপচয় পরিহার করতে হবে। দেশের জনগণ ও সরকার সহ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশের যেকোনো সংকট উত্তরণে আমরা সফল হবো ইনশাআল্লাহ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকন।