এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থীকে এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দিচ্ছে সরকার। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের মূল্যবান একটি বছর যেন নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শনিবার সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবার এক বিষয়ে ফেল করেছেন ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন শিক্ষার্থী। ভর্তি কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। তবে প্রস্তুতির জন্য এক মাসের বেশি সময় দেওয়া সম্ভব হবে না।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইংরেজি বিষয়ে সবচেয়ে বেশি ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। আইসিটিতে ফেল করেছেন ১৩ হাজার ৮৪৯ জন। ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা কাটাতে শিক্ষক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। এবারের ফলাফলে পাসের হার কমে যাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি পূরণে মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এ ছাড়া যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি, প্রয়োজনে সেসব প্রতিষ্ঠান আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে এতে কোনো শিক্ষকের চাকরি যাবে না বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে ১ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। মূল্যায়নে বড় ধরনের ভুল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ মিলিয়ে দেশে প্রায় ১৩ লাখ ৪০ হাজার আসন রয়েছে জানিয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ নিয়ে আশ্বস্ত করেছেন তিনি। তবে ভর্তির জিপিএ শর্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব নিয়মে নির্ধারণ করবে।