ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, ইরানে বিদেশি আধিপত্যের দিন ফিরিয়ে আনার যে চেষ্টা চলছে তা কখনো সফল হবে না। একই সঙ্গে শিগগিরই আরব সাগর থেকেও শত্রু বাহিনীকে হটিয়ে দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। সোমবার প্রতিরক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় এসব কথা বলেন মোজতবা খামেনি। ইরানে প্রতিবছর প্রতিরক্ষা সপ্তাহ পালিত হয় ১৯৮০ সালে তৎকালীন ইরাকি শাসক সাদ্দাম হোসেনের ইরানে যুদ্ধ শুরুর স্মরণে।
বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, একসময় দক্ষিণ ইরানের দুই সাগর শত্রু বাহিনীর জন্য খেলার মাঠের মতো ছিল। কিন্তু ইরানি যোদ্ধা ও হরমুজ প্রণালির রক্ষকদের কাছ থেকে কঠিন প্রতিরোধ পাওয়ার পর তারা এখন আরব সাগরের ওপারে যাওয়ার সাহস করে না বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, যখনই শত্রুরা এ ধরনের ঝুঁকি নিয়েছে তখন তাদের নিজেদেরই ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। আরব সাগর থেকেও তাদের পুরোপুরি সরিয়ে দিতে বেশি সময় লাগবে না বলে মন্তব্য করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।
আরও পড়ুন,
- ভারতের সবচেয়ে ধনী অভিনেতা শাহরুখ
- কারফিউ নিয়ে প্রশ্ন করতেই কাঠগড়ায় কামরুলের বাগ্বিতণ্ডা
- মিরপুরে ক্ষতিগ্রস্ত রাড্ডা কেন্দ্রে জামায়াতের ৫০ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগের সময়কে ‘অন্ধকার দিন’ হিসেবে বর্ণনা করে মোজতবা খামেনি বলেন, তখন বিদেশি শক্তিগুলোর প্রভাব ইরানের রাষ্ট্র পরিচালনায় ছিল। তার দাবি, ওই সময় বিদেশি শক্তির প্রতিনিধিরা ইরানের সম্রাটের কাছে বিভিন্ন নির্দেশনা পৌঁছে দিতেন এবং সেগুলো বাস্তবায়ন করা হতো।
মোজতবা খামেনির বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব ওই ব্যবস্থার অবসান ঘটায়। তিনি বলেন, ইরানের সম্পদ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করেছিল এবং বিপ্লবের মাধ্যমে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। প্রতিরক্ষা সপ্তাহের এই বার্তায় লেবাননের প্রয়াত হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহকে স্মরণ করার প্রসঙ্গও আসে।
মোজতবা খামেনির বক্তব্য মূলত ইরানের প্রতিরোধ ও সার্বভৌমত্বের অবস্থানকে তুলে ধরে। আরব সাগর ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই তার এই বক্তব্য সামনে এলো।