রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর নগরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মোড় প্রবেশপথ ও জনবহুল এলাকায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশের উপস্থিতি ও নজরদারি।
শনিবার গভীর রাতে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকায়ও পুলিশের একাধিক সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও কবি নজরুল সরকারি কলেজসংলগ্ন এই এলাকায় বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। সন্দেহজনক কাউকে দেখা গেলে পথচারীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ককটেল বিস্ফোরণের পর বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় তল্লাশি ও নজরদারি চলছে।
এর আগে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কমলাপুর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের একটি নির্জন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্টেশন এলাকায় প্ল্যাটফর্মকেন্দ্রিক টহল জোরদার করা হয়।
এরও আগে সন্ধ্যায় যাত্রাবাড়ী এলাকায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণে একজন অটোরিকশাচালক আহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ঘটনায় কারা জড়িত তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এদিকে শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। মিরপুরে দুটি বাসে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। একই সময়ে মধ্যবাড্ডায় আরেকটি বাসে আগুন এবং রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে থানার সামনে জব্দ করে রাখা একটি পিকআপে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট উড়ালসড়ক ও প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ডিএমপি জানিয়েছে, নিয়মিত টহলের পাশাপাশি চেকপোস্ট ও পিকেট ডিউটি বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ডিবি সিটিটিসি ও এপিবিএনের সদস্যদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন অভিযানে ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার এবং ৪৭টি মামলা করা হয়েছে। তবে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।